মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন

লবণাক্ত মাটিতে সৌদির খেজুর চাষ করে তাক লাগিয়েছেন জাকির

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৭ জুলাই, ২০২৩
  • ৪৫ বার পড়া হয়েছে

খেজুর বা খুরমা মানেই সৌদি আরব বা মরু অঞ্চলের ফল। মরু ভূমিতেই এর চাষ হয়। বাংলাদেশে এ ফলের চাষ অনেকের কাছে অবাস্তব, তাও যদি আবার হয় লবণাক্ত মাটিতে। সৌদি আরবের খেজুর বাগান এখন উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে। রামপালের লবণাক্ত জমিতে সৌদি আরবের খেজুর চাষ করে সম্ভবনার দুয়ার খুলেছেন সৌখিন কৃষি উদ্যোক্তা অ্যাড. দিহিদার জাকির হোসেন। বাগানের ৮০টি গাছে ৬ থেকে ১০টি করে কাধিতে রঙ বেরঙ্গের খেজুর শোভা পাচ্ছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, লবণাক্ত জমিতে সৌদি আরবের খেজুরের এমন বাম্পার ফলনে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্ন্যাসী গ্রামে ১৫ বিঘা জমির ওপর অ্যাড. দিহিদার জাকির হোসেন গড়ে তুলেছেন সৌদি আরবের খেজুরের বাণিজ্যিক বাগান। সারি সারি সৌদি আরবের খেজুর গাছ। ছোট ছোট গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে বিভিন্ন রঙের খেজুর। গেল বছর অল্প কিছু গাছে ফল আসলেও এ বছর পেয়েছেন সাফল্যের দেখা। বাগানের সাড়ে ৪শ গাছের মধ্যে ৮০টি গাছে ৬ থেকে ১০টি করে কাধিতে খেজুর এসেছে।

জাকির হোসেন জানান, বাগেরহাটের উপকূলীয় উপজেলা রামপালের লবণাক্ত মাটিতে তেমন কোন ফসলই ভালো হয় না। এই জমিতে তিনি বিভিন্ন ফলের চাষ করতে গিয়ে ব্যর্থ হন। পরে রাস্তার পাশে দেশি খেজুর গাছে ফলন দেখে সৌদির খেজুর চাষের কথা মাথায় আসে তার। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দেখে ২০২০ সালে চারা সংগ্রহ করে শুরু করেন সৌদি খেজুরের চাষ। বর্তমানে এই বাগানে আজোয়া, মরিয়ম, সুকারি, আম্বার ও বারহী জাতের সাড়ে ৪শ খেজুর গাছ রয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে খেজুরের বাগান গড়ে তুলতে পারলে এটি রপ্তানি করে চিংড়ির মত বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

জাকির হোসেন আরও বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষি উদ্যোক্তারা তার বাগানে আসেন। তিনি তাদেরকে সঠিকভাবে বাগান করার পরামর্শ দেন। ইতোমধ্যে প্রতি পিস ২০ হাজার টাকা করে অনেক চারাও বিক্রি করেছেন।

শ্রমিক সাদ্দাম হোসেন জানান, নিজেদের হাতে গড়া এই বাগানে খেজুরের এমন ফলন দেখে মন ভরে যায়, প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থান থেকে অনেকেই এই বাগান দেখতে আসেন।

মল্লিকের বেড় ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তালুকদার নাজমুল কবির ঝিলাম বলেন, এ বছর রামপাল উপজেলার মল্লিকের বেড় ইউনিয়নের সন্ন্যাসী গ্রামের দিহিদার জাকির হোসেনের বাগানে সৌদি খেজুরের বাম্পার ফলন হয়েছে। এটা এই অঞ্চলের জন্য একটি সম্ভাবনা।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বেশির ভাগ এলাকায় অতিরিক্ত লবণের কারণে তেমন কোনো ফসল হয় না। একমাত্র চিংড়ি চাষই ভরসা। কিন্তু গত কয়েক বছরে চিংড়ির উৎপাদনও ভালো নয়। রামপাল উপজেলার সন্ন্যাসী গ্রামে সৌদি খেজুরের বাগানে এ বছর বাম্পার ফলন হয়েছে। এই ফলন এই অঞ্চলের সম্ভবনার দ্বার উম্মোচিত করেছে। ইতোমধ্যে এটি জেলাব্যাপি ছড়িয়ে দিতে কাজ শুরু করা হয়েছে। লবণাক্ত জমিতে খেজুরের চাষ হলে একদিকে যেমন পতিত জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে অন্যদিকে খেজুরের উৎপাদন বাড়লে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৫২ পূর্বাহ্ণ
  • ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
  • ১৬:৩৩ অপরাহ্ণ
  • ১৮:৪০ অপরাহ্ণ
  • ২০:০৩ অপরাহ্ণ
  • ৫:১৩ পূর্বাহ্ণ
© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা,ছবি,অডিও,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।।
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102