রবিবার, ১৯ মে ২০২৪, ০১:০৩ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীতে সুদের ব্যবসা ও প্রতারণা করে ফার্মেসী কর্মচারী থেকে কোটি টাকার মালিক এজেন্ট শাহিন 

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১ জুলাই, ২০২৩
  • ৫৭ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি বাজারে ২০১৮ সালে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এজেন্ট শাখার অনুমতি পায় মেসার্স সরকার ফার্মেসী। বর্তমান গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চৌদ্দ শ। এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা পাওয়ার পরে দীর্ঘ মেয়াদে টাকা রাখা এবং উত্তোলন করা গ্রাহকের টার্গেট করে এজেন্ট শাহিন আলম। ম্যানেজারের মাধ্যমে গ্রাহকের টাকা জমা না করে শুধুমাত্র মানি রিসিট দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে চড়া সুদের ব্যবসা শুরু করেন এজেন্ট শাহিন। লাখ টাকায় প্রতিদিন ১ হাজার টাকা চড়া সুদে ব্যবসায়ীদের মাঝে বিতরণ করত সে।
মামলাবাজ ও প্রতারক শাহিন আলম যাদের সুদে টাকা দিত তাদের কাছ থেকে জামানত হিসেবে কারো থেকে একটি আবার কারো থেকে দুই তিনটি চেক ও স্টাম্পে ফাঁকা স্বাক্ষর রেখে টাকা দিত। যারা তার কথা মত সুদের টাকা দেয়নি তাদের নামে পাঁচ/ সাতগুন টাকা চেক ও স্টাম্পে বসিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।তার সুদের টাকা দিতে না পারায় যারা মামলায় আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছেন তাঁরা হলেন, মৌগাছি ইউপি’র ইলামত গ্রামের বিশিষ্ট পান ব্যাবসায়ী মো: ইসলাম উদ্দিন ও তার ছেলে সেলিম পারভেজ শাহিনের থেকে সুদে টাকা নেন মুল টাকা ১৫ লাখ। ১৫ লাখ টাকায় ২১ লাখ টাকা দেওয়ার পরেও সুদে কারবারি শাহিন ইসলামের সইকরা ফাকা চেকে ৪৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও তার ছেলে সেলিম পারভেজের নামে ৪০ লাখ ৫০ হাজার মোট ৮৬ লাখ টাকা করেন। ধুরইল পূর্বপাড়া গ্রামের আনছের এর ছেলে পান ব্যবসায়ী সোহেল রানার মুল টাকা ২ লাখ তার নামে মামলা করা হয়েছে ২০ লাখ টাকা। তাছাড়া এখনও অনেকে তার মামলা থেকে বাঁচতে মান সম্মানের ভয়ে সুদের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে জমি জিরাত বন্দকী ও ব্যবসা বানিজ্য বন্ধ করে দিয়ে তাকে যারা টাকা পরিশোধ করছেন তারা হলেন মাটিকাটা গ্রামের ছবিউল,আয়েজ উদ্দিন ও মোস্তফা।শাহিন আলমের সুদের নগ্ন থাবা থেকে নিজেদের বাঁচাতে চেক ও স্ট্যাম্প উদ্ধারে আদালতে মামলা করেন ইসলাম ও তার ছেলে সেলিম পারভেজ। মামলাটি আদালতে চলমান থাকার পরেও সেলিম পারভেজকে সুদের টাকার জন্য হাজতবাস করতে হয়েছে।
ফার্মেসী কর্মচারী থেকে শাহিন আলম কিভাবে কোটি টাকার মালিক অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে তার আসল রহস্য। ছোট বেলায় বোনের বিয়ের সুবাদে নাটোর দত্তপাড়া থেকে দুলাভাই আরজেদ সরকারের বাড়িতে আশ্রয় এবং পড়াশোনা তার। শিক্ষিত বেকার হয়ে বসে না থেকে তার দুলাভাইয়ের ওষুধের দোকান মেসার্স সরকার ফার্মেসীতে কর্মচারী হিসেবে সামান্য বেতনে চাকুরি নেন। দুলাভাই আরজেদ সরকারকে ম্যানেজ করে সরকার ফার্মেসীর নামে নেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এজেন্ট শাখা। যদিও শাখাটি মৌগাছি বাজারের সরকার ফার্মেসী সংলগ্ন আরেক ব্যবসায়ী শাহিন এর নামে অনুমোদন হয়েছিল। তৎকালীন যারা এ শাখাটি অনুমোদন দিয়েছিল তারা বর্তমান এজেন্ট শাহিন আলমের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নামের মিল থাকায় মেসার্স সরকার ফার্মেসীকে শাখাটি পাইয়ে দেন। শাখাটি পাওয়ার পর এজেন্ট শাহিন কর্মচারী থেকে এজেন্ট মালিক বনে যান। গল্পের শুরু এখান থেকেই। এখন শুন্য থেকে কোটি টাকার মালিক এজেন্ট শাহিন আলম। তিনি ১ কোটি ৬ লাখ টাকার সুদের টাকার মামলার বাদি ও। চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি ম্যানেজার খোরশেদ আলমকে ফাঁসাতে গত ছয় মাস ধরে বেতন বাকিসহ খারাপ আচরণ শুরু করেন। তার মূলে এজেন্ট শাহিন একটি বেগুনি রংয়ের রেজিস্ট্রার বহি যেখানে এজেন্ট শাহিন ব্যাংক গ্রাহকের সরানো টাকা লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। বইটি ম্যানেজার খোরশেদ এর হাতে আসতেই গ্রাহকের থেকে সরানো টাকার পরিমাণ দেখে শিউরে উঠেন এবং গ্রাহকের সাথে প্রতারনা বন্ধ করতে বলায় শুরু হয় মনোমালিন্য। দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি এক পর্যায়ে ম্যানেজারকে অন্যায় অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করায় আর ব্যাংকে আসেনি ম্যানেজার খোরশেদ। সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এজেন্ট শাহিন আলম তার কাছে লিপিবদ্ধ রেজিস্ট্রারের  পরিমান বসিয়ে গ্রাহকের পক্ষে মোহনপুর থানায় ম্যানেজার খোরশেদ এর নামে অভিযোগ ও পরে আদালতে মামলা দায়ের করে নিজেকে বাঁচানোর অভিনব পথ খুঁজেন। এদিকে ব্যাংক গ্রাহকরা টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে মেসার্স সরকার ফার্মেসী এজেন্ট ব্যাংক আউটলেটে তালা ঝুলিয়ে দিলে আবারো ছয়জন গ্রাহককে অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ব্যাংক এজেন্ট শাহিন আলম আর এ কাজে তাকে সহায়তা করেন থানা আওয়ামীলীগের লেবাসধারী কিছু পাতি নেতা। এরই মাঝে ম্যানেজার খোরশেদ থানা পুলিশের কাছে আটক হয়ে শাহিনের বিরুদ্ধে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
এতসব ঘটনার পরে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংক রাজশাহী রিজিওনাল ম্যানেজার জুয়েল সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আপাতত এজেন্ট ব্যাংক শাখাটি বন্ধ রাখা হয়েছে গ্রাহকের অভিযোগের জন্য ওই শাখায় একটি মোবাইল নাম্বার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে রাজশাহী ও ঢাকা অফিস হতে আলাদা আলাদা তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দেওয়ার পর এজেন্ট শাহিন আলমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেন জানান। গ্রাহকদের প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় অনেক গ্রাহক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কেউবা আবার ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার পরেও তা আত্মসাতের ঘটনায় ব্যাংকে টাকা পয়সা জমানোকে নিরাপদ বলে মনে করছেন না।
মেসার্স সরকার ফার্মেসী ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এজেন্ট নিয়ে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় কয়েকজন গ্রাহক বাদী হয়ে এজেন্ট শাহিন ও তার দুলাভাই আরজেদ সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। এক দুই দিনের মধ্যে মামলাটি আদালতে উঠবে বলে জানান গ্রাহকরা।এজেন্ট শাহিন আলম মামলা থেকে নিজেকে বাঁচতে তার এজেন্ট ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজ ও বেগুনি রংয়ের রেজিস্ট্রার বহিটি গায়েব করেছেন গ্রেফতারের আগেই সাক্ষাৎকারে বলেন ম্যানেজার খোরশেদ এখানেই শেষ নয় গত ২১ মার্চ শাহিন তার এজেন্ট হিসাব থেকে অন্য হিসাবে প্রায় ৫ লাখ টাকা সরিয়েছেন বলেও দাবি তার।
এব্যাপারে এজেন্ট শাহিন আলমের সুদের টাকা দিতে না পেরে পলাতক কৃষ্মপুর গ্রামের পান ব্যবসায়ী মিঠুনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, শাহিনের থেকে ৫০ হাজার টাকা সুদে নিয়েছিলাম। মুল টাকা পরিশোধে কিছু টাকা বাকি ছিল সেই টাকা নাকি এখন ২ লাখ।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৫৫ পূর্বাহ্ণ
  • ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
  • ১৬:৩২ অপরাহ্ণ
  • ১৮:৩৭ অপরাহ্ণ
  • ২০:০০ অপরাহ্ণ
  • ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ
© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা,ছবি,অডিও,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।।
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102