শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ০৬:৪১ অপরাহ্ন

টানা বৃষ্টিতে বান্দরবানে ব্যাপক পাহাড় ধস যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১২ আগস্ট, ২০২৩
  • ৫৮ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৩

Nagad
ফাইল ছবি
Bengal

টানা ভারী বৃষ্টির কারণে বান্দরবানের রুমা-থানচি সড়কে ব্যাপক পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। ফলে সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বড় বড় পাথরখণ্ডও, বিদ্যুতের খাম্বা উপড়ে গিয়ে পড়ে আছে সড়কে। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় পাহাড় ধসের স্তূপ দেখা গেছে।

গুগল নিউজে ফলো করুন www.dailybangladesherdak.com অনলাইন

শুক্রবার (১১ আগস্ট) সরেজমিন দেখা যায়, শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে রুমা-থানচি সড়কে মিলনছড়ি এলাকায় চারটি পয়েন্টে পাহাড় ধসে পড়েছে। সড়কের মাঝখানে পড়ে আছে ধসের স্তূপ, পাথর ও কাদামাটি। তার ভেতরেই কোনোরকমে চলাচল করতে দেখা গেছে স্থানীয়দের।

এদিকে বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কের বিভিন্ন জায়গায় পাহাড় ধসে পড়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বান্দরবান শহর থেকে চিম্বুক পাহাড় হয়ে ১৮ কিলোমিটার পর্যন্ত গেলে পড়ে ওয়াইজংশন এলাকা। সেখান থেকে ভাগ হয়ে একপাশ দিয়ে চলে গেছে রুমা সড়ক, অপরপাশ দিয়ে থানচি সড়ক। ওয়াইজংশন থেকে অল্প দূরত্বে রুমা সড়কে দুটি জায়গায় সড়কের ওপর পাহাড় ধসে পড়েছে।

Ruchi

অন্যদিকে জেলা শহর থেকে থানচি সড়কের পাতুই ম্রো পাড়ায় সড়কের একটি অংশ পুরোপুরি ধসে পড়েছে। ঘটনার পর যান চলাচলের উপযোগী করতে সড়কে মাটি সরানোর কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী।

৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সট্রাকশন ব্রিগেডের আওতাধীন সেনাবাহিনীর ২০ ইসিবি ওয়ারেন্ট অফিসার রাহুল হাসান পার্থ সাংবাদিকদের বলেন, বান্দরবান থেকে রুমা-থানচি সড়কটি যত দ্রুত সম্ভব চলাচলের উপযোগী করা হচ্ছে। তবে পাহাড় ধসে সড়কের উপর বিদ্যুতের তার পড়ে থাকায় কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছে। ঠিক কতদিনের মধ্যে যান চলাচলের স্বাভাবিক হবে বলা যাচ্ছে না।

টংকাবতি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্লুকান ম্রো গণমাধ্যমকে বলেন, ধসে পড়া সড়কের পশ্চিম অংশে টংকাবতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে পাতুই পাড়া পড়েছে। ‍পূর্ব অংশ পড়েছে রুমা গালেঙ্গ্যা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পুড়াবাংলা ম্রো পাড়া। স্থানীয় পাড়াবাসীরা আপাতত ধসে পড়া সড়কের পেছনে একটি পাহাড় পার হয়ে চলাচল করছে।

স্থানীয়রা জানান, ৩০ কিলোমিটার এলাকার পরে থানচি সদর পর্যন্ত আরও বিভিন্ন জায়গায় সড়ক ধসে গেছে। কোথাও কোথাও সড়কের উপর পাহাড় ধসে পড়েছে। বিশেষ করে নীলগিরি, নীলদিগন্ত ও বলিপাড়ার দিকে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে বেশি।

অপরদিকে, এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে বন্যা ও পাহাড় ধসে ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, বান্দরবান সদর উপজেলার টংকাবতি মুসলিম সিকদার পাড়া এলাকার মো. ইউনুস (৪৭), বাইট্যাপাড়া বাসিন্দা তরচ্যং ম্রো (৩২), বান্দরবান সদর ইউপির দাঁতভাঙ্গা পাড়ার ছায়ারাণী তঞ্চঙ্গ্যা (৪৫), বান্দরবান পৌরসভার গোদার পাড় এলাকার সন্ধ্যা বালা শীল (৫২), বর্ষা শীল বুলু (১৭), লামা ফাঁসিয়াখালী এলাকার করিমা আক্তার (৩৬), লামার রূপসি পাড়ার মংবাসিং মারমা (২৮), আলীকদমে জামতলী ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঠাকুর পাড়া এলাকার মো. মুছা (২২) ও আব্দুল আমিন (১৮) এবং নাইক্ষ্যংছড়ি সোনাইছড়ি এলাকার পংছা মারমা (৬৫)।

এদিকে শুক্রবার (১১ আগস্ট) বিকালে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন। এ সময় তিনি বান্দরবানে পাহাড়ের পাদদেশে ও নদীভাঙন এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান

মোজাহিদ উদ্দিন জানান, স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বান্দরবান জেলার অধিকাংশ জনগণ। সবশেষ তথ্য পাওয়া পর্যন্ত জেলায় পাহাড়ধসে ১০ জন নিহত, ১৫ হাজার ৮০০ পরিবারের প্রায় ৬০ হাজার জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত, তিন হাজার ৫৭৮টি পরিবারের প্রায় ১৫ হাজার জনগণ আংশিক ও আট হাজার ২৫৩ হেক্টর ফসলি জমি চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, বান্দরবান সদরে মধ্যমপাড়া আহম্মদ্যার কলোনি এলাকার সাঙ্গু নদীর তীর এলাকায় নদীভাঙনে একটি দোতলা বাড়ি ও সাতটি কাঁচাঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসন, সেনাবাহিনী এবং পুলিশের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে, এ পর্যন্ত যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের বেশিরভাগই পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী। তাই, জেলায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারী সবাইকে নিরাপদে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৫৫ পূর্বাহ্ণ
  • ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
  • ১৬:৩২ অপরাহ্ণ
  • ১৮:৩৭ অপরাহ্ণ
  • ২০:০০ অপরাহ্ণ
  • ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ
© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।। এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা,ছবি,অডিও,ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।।
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102